OrganicCareBd

সরিষা ফুলের মধু (৫০০ গ্রাম)

সরিষা ফুলের মধু (৫০০ গ্রাম)

সরিষা  ফুলের মধু (Mustard Flower Honey)

মধুর উপকারিতা এবং স্বাদ সম্পর্কে অবগত নয় এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। মধু মূলত একটি খাদ্য ও ঔষধি পণ্য।মানবদেহের আবশ্যকীয় ভিটামিনের মধ্যে শতকরা ৭৫ ভাগ মধুতে পাওয়া যায়। আল্লাহ তা-আলা দুনিয়াতে জান্নাতি কিছু নিয়ামত দিয়েছেন--মধু তার মধ্যে অন্যতম নেয়ামত। মধুর উপকারিতা নিয়ে কুরআন মাজীদে আন নাহল নামে একটি সূরা আছে। মধু মিশিয়ে আয়ুর্বেদিক, হার্বাল ও অন্যান্য চিকিৎসায় বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ  তৈরি হচ্ছে তেমনি সরাসরি মধু খেলে বিভিন্ন রোগ হতে মুক্তি মিলছে। 

সরিষা  ফুলের মধু (Mustard Flower Honey)কী?

অনেকে মধু বলতে বুঝেন মৌমাছি থেকে প্রাপ্ত মধু নয়তো বানানো মধু। মৌমাছি তার জীবন ধারণের জন্য ফুলের রস (Nectar)এবং ফুলের পরাগ (Pollen) সংগ্রহ করে থাকে। খাঁটি মধুতে তাই বিশেষভাবে পোলেন থাকে ,বানানো মধুতে যেটি থাকা সম্ভব নয়। তবে কি সরিষা ফুলের মধু বানানো বা কৃত্রিম মধু? না, সরিষা ফুলের মধু বানানো মধু নয় । সরিষা ক্ষেতের মাঝে বা তার আশপাশে মধু সংরক্ষণের লক্ষ্যে এক ধরণের বক্স রাখা হয়। মৌমাছি সরিষা ফুল থেকে তাদের সংগৃহীত রস সেখানে জমা রাখে ।এক পর্যায়ে সেখান থেকে পক্রিয়াজাত করে মধু তুলা হয়।  মৌমাছি সরিষা ফুলের রস থেকে মধু সংরক্ষণ করে বলে একে সরিষা ফুলের মধু বা Mustard Flower Honey বলে।  এই মধুতে গ্লুকোজের পরিমান তুলনামুলক বেশি হওয়ায় এই মধু জমে পড়ে।


সরিষা  ফুলের মধুর (Mustard Flower Honey) বৈশিষ্ট্য

১. এই মধু দেখতে কালোজিরা ফুলের মধুর মত গাঢ় কালো নয় কিন্তু অন্যান্য মধু থেকে কালো রঙের।

২. এই মধুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য এই মধু জমে যায়। অন্যান্য মধুর ক্ষেত্রে যেটা কম পরিলক্ষিত হয়।

৩.  আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি এই মধু পাওয়া তাই দাম অপেক্ষাকৃত কম।

৪.  এটি মিশ্র মধু নয়। এই মধুতে সরিষার ফুলের পরিমান শতকরা ৯০-৯৫%।

৫.  সরিষা ফুলের  মধু মূলত চাষের মধু, অন্যান্য মধুতেও সরিষা ফুলের মধু  পাওয়া যেতে পারে ,তবে    সেটির পরিমাণ কম।


সরিষা  ফুলের মধুর (Mustard Flower Honey) পুষ্টিমান

সরিষা ফুলের মধুতে শতকরা ৩১ভাগ ফ্রক্টোজ,শতকরা ৫২ ভাগ গ্লুকোজ এবং শতকরা ১৭ ভাগ পানি।গ্লুকোজ ও ফ্রক্টোজের সমন্বয়ে তৈরি হয় অসমোলারিটি যা আমাদের শরীরে রোগ জীবাণু ধ্বংস করে। এ মধুর পাচক রসে বিদ্যমান হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ক্ষত স্থানের রোগজীবাণু নিরাময় করে।রাসায়নিক পরীক্ষায় জানা যায় যে, মধুতে আট প্রকার রাসায়নিক পদার্থ আছে। এর প্রধান উপাদান হলো সুগার বা চিনি। যার ভিতরে লেড উলোজোন ৩৯%, ডেকট্রোজ-৩৯%, সালটোজ – ৯%, প্র“কোজ-১%, ও সুক্রোজ-সামান্য পরিমাণে থাকে।ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৪, বি-৬, সি, ই, কে, ও ক্যারোটিন বা ভিটামিন এ বিদ্যমান।   

সরিষা  ফুলের মধুর (Mustard Flower Honey) উপকারিতা :

১.  সরিষা ফুলের মধুতে থাকা নানা উপাদানের নির্যাস শরিরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

২. রক্তচাপ দ্রুত বৃদ্ধি করে।

৩.  শরির সতেজ ও প্রানবন্ত রাখে।

৪.  রক্ত পরিষ্কার করে।

৫.  হজম শক্তি বাড়ায়।

৬. গ্যাস্ট্রিক বা আলসার নিরাময় করে।

৭. যৌন রোগের জন্য বিশেষ উপকারি।

৮. স্কিন পরিষ্কার রাখে।

৯.  পেটের ডাইজেস্ট বৃদ্ধি করে।

রুপচর্চায় সরিষা ফুলের  মধুর ব্যবহার :


     ত্বককে কোমল ও লাবণ্যময়ী  করতে এক চামচ সরিষা  ফুলের মধু পরিষ্কার ত্বকে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন ত্বকে এক্সট্রা উজ্জ্বলতা ভাব দেখা দিচ্ছে।

     ব্রণ ও কালো দাগ দূর করতে পরিষ্কার ত্বকে মধু আলতো করে ঘষুন ,তারপর অল্প পরিমাণে মধু ত্বকে ১০ মিনিট লাগিয়ে ত্বক ধৌত করুন।

     চুলকে কন্ডিশনিং এবং শ্যাম্পু করতে চুলে অল্প পরিমাণ মধু লাগিয়ে ৫-১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন ।

    ৪.এছাড়াও ত্বকের যেকোনো স্থানের কালো দাগ দূর করতে পরিমিত মধু স্থানটি পরিষ্কার করে লাগিয়ে রাখুন, আলতো করে ঘষতেও পারেন।


আসল  সরিষা  ফুলের  মধু চেনার উপায় :

অসচেতন লোক সহজেই সরিষা  ফুলের  মধু চিনতে ভুল করবেন। বাজারে যে হারে ভেজাল মধু বিক্রি হচ্ছে তাতে যদি আপনি ঐ মধুতেই আসক্ত থাকেন তাহলে  সরিষা  ফুলের মধু আপনার জন্য চিনতে কষ্ট হবে। শুধু মাত্র ল্যাব টেস্ট ব্যতীত আসল মধু সম্পূর্নভাবে চেনা সম্ভব নয়। কিন্তু কিছু বৈশিষ্ট্য ও অভিজ্ঞতা দিয়ে আপনি এই মধু চিনতে পারেন। এর কমন বৈশিষ্ট্য হলো এই মধু দেখতে অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার ও একটা সময় পর জমে যায়। এই মধু শীতকালে খুব তাড়াতাড়ি জমে, অন্য সময়েও জমে কিন্তু ধীরে ধীরে। এছাড়াও আপনার কাছে যদি Ph মাপার মেশিন থাকে তাহলে খুব সহজেই আপনি আসল না ভেজাল মধু তা চিনতে পারবেন।মধুর গড় pH মান ৩.৯ ৷  তবে এর মান ৩.৪ থেকে ৬.১ পর্যন্ত হতে পারে৷ যদি আপনার মধুতে pH মান এর ব্যতিক্রম হয় তাহলে নিশ্চিত তাতে কোন ভেজালদ্রব্য মিশ্রিত আছে।মধু সবসময় পাতলা ও ফ্যানাযুক্ত হবে। পাত্রে আটকে রাখলে পাত্রের মধ্যে গ্যাস তৈরি হবে এবং ঝাঁকি দিলে অবশ্যই ফ্যানা উঠবে। সরিষা ফুলের খাঁটি মধু জমে গেলে বর্ণ ঘি এর মতো ধারণ করবে । জিহবায় নিলে সাথে সাথে গলে যাবে এবং  খেতে গ্লুকোজের মত লাগবে৷ ভেজাল বা নকল মধু জমে গেলে তাপের সংস্পর্শে আসলে পূনরায় তরল মাত্রার খুব একটা হবে না।

300.00৳ 

Quantity

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “সরিষা ফুলের মধু (৫০০ গ্রাম)”

Your email address will not be published. Required fields are marked *